সেই ছবিটা
তা হলে আর দেরি করে কী হবে? চলুন যাওয়া যাক!
লোকটি আমার দিকে সবুজ পাথরের আংটি পরা হাত বাড়িয়ে দিল। আমাকে টেনে তুলতে চায় নাকি? অতটা দরকার নেই, আমার এখনও যথেষ্ট মনোবল আছে। তবে এই বেতের চেয়ারের মাঝখানটা এমনই গভীর খোদলের মতন যে উঠতে একটু সময় লাগে।
উঠে দাঁড়ালাম। লোকটি আমার চেয়ে সামান্য লম্বা। মাথার চুল পাতলা। চুড়িদারের সঙ্গে ঢোলা পাঞ্জাবি পরা, স্টিলের ফ্রেমের চশমা। ধারালো চিবুক। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, এই ধরনের চিবুক-ওয়ালা মানুষ আমার ঠিক হজম হয় না। এরা পদে পদে আমাকে ছোট করে। কথার মাঝখানে অকারণে এমন ভাবে হেসে ওঠে যেন আমি এতক্ষণ যা বলছিলাম তা মৃগী রুগীর বিলকিস ছিলকিস!
চটি পরার দরকার নেই!
হুকুমের সুরে লোকটি এই কথা বলায় আমি একটু দ্বিধা করলুম। সাতাশ বছর আগে আমার খালি পায়ে হাঁটা অভ্যেস ছিল, তার ওপর নির্ভর করা যায়? দেখা যাক।
বাইরে রয়েছে লোকটির মটোর বাইক। আমাকে পিলিয়ান সীটে বসার জন্য ইঙ্গিত করলো। মটোর বাইক আরোহীদের একটা আলাদা ব্যক্তিত্ব এসে যায়। হাত দুটি ছড়াবার ভঙ্গিই এমন, যেন জগৎ শাসন করতে চলেছে। সেই সঙ্গে গর্জন। মটোর বাইকে বুঝি সাইলেন্সার লাগানো যায় না? আমার ধারণা, ইচ্ছে করেই আওয়াজটা রেখে দেওয়া হয়েছে। ওদের কখনো হর্ন বাজাবার দরকার হয় না।
প্রায় চল্লিশ মিনিট যেতে হলো, অনেকটা দূর, শহর ছাড়িয়ে টাটকা বাতাসে, বৃষ্টির গন্ধমাখা মাঠের পাশ দিয়ে। এটা ডায়মন্ড হারবারের রাস্তা, আমার চেনা।
মাঝখানে কোনো কথা হলো না। মটোর বাইকটি একটি পেট্রোল পাম্পে ঢুকলো। তেল টেল নিতে হবে ভেবে আমি নেমে দাঁড়িয়ে এক কোণে একটা নিম গাছের তলায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরাবার জন্য পকেটে হাত দিয়েছি। তখনই বিকেলের আকাশ খুব নিচু হয়ে এসে একটা বিদ্যুৎ হানলো। মুখ তুলে দেখলুম বুলন্দ দরওয়াজার মতন একটা বিশাল দরজা খুলে গেছে, তার ওধারে স্বর্গনগরীর এক ঝলক দৃশ্য। বুঝলুম, ঐ বিদ্যুৎটি আমার ব্যক্তিগত, শুধু আমাকে দেখাবার জন্যই ঐ দৃশ্যের আয়োজন, আর কেউ দেখতে পাবে না।
লোকটি তা হলে মিথ্যে বলে নি।
মটোর বাইকটিকে এক পাশে রেখে লোকটি কাচে ঘেরা ঘরটিতে ঢুকে আমায় ডাকলো। সে ঘরের চেয়ার সব খালি।
এই পাম্পটা আপনার?
লোকটি বললো, এটা আমাদের অফিস ঘর। তারপর সে পেছন দিকের একটা সবুজ রঙের দরজা খুলে বললো, আসুন!
আমার সামান্য একটু দ্বিধা হলো। ফিরতে পারবো তো? কোনো জায়গায় যাওয়ার মধ্যে যতই নতুনত্ব থাক, ফিরে আসাটাই সবচেয়ে লোভনীয়।
লোকটি আমার দিকে ফিরে হাসলো। সেই কথার মাঝখানের হাসি। বললো, ঠিক আছে, সিগারেটটা শেষ করে নিন।
এ রকম কত গুপ্ত অফিস আছে আপনাদের?
প্রশ্ন করা শেষ হয়ে গেছে, তাই না? এই রকমই তো শর্ত ছিল!
সবুজ রঙের দরজার ওপাশে সিঁড়ি নেমে গেছে ভূগর্ভে'। একটি বাঁকে একটি মার্কাবি ল্যাম্প। সেই পর্যন্ত এসে ধারালো চিবুকওয়ালা লোকটি বললো, শুভযাত্রা! সিঁড়ি একটাই, আপনার পথ ভুল করার উপায় নেই।
বুঝলাম, এবার সে ফিরে যাবে। তাতে খানিকটা স্বস্তি বোধ করা গেল।
নামতে নামতে মনে হয়, ফেরার সময় এতগুলো সিঁড়ি উঠতে হবে। ফেরার চিন্তা কিছুতেই মাথা থেকে যায় না। বুকে হাত বুলিয়ে নিজেকে একটু আদর করলুম।
কিসের গন্ধ আসছে? চাঁপা ফুলের? মাটির তলায় কী করে ফুলের গন্ধ আসবে? কিন্তু মনটা বেশ উৎফুল্ল লাগছে।
আর একটি সবুজ দরজা। সেটি বন্ধ থাকলেও তার ওপাশে আমাকে যেতে হবে, এ তো জানা কথাই। দরজাটি ঠেলতেই দেখা গেল, মেঝেতে দুটি রমণী হাঁটু গেড়ে বসে আছে প্রার্থনার ভঙ্গিতে, তাদের চুল পিঠের ওপর মেলা,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments